![]() |
| বাংলাদেশের কয়টি বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও থানা রয়েছে? (পূর্ণাঙ্গ তালিকা) |
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো: কয়টি বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও থানা রয়েছে? (পূর্ণাঙ্গ গাইড)
আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ একটি সুন্দর এবং সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। আপনি যদি একজন শিক্ষার্থী হন, চাকরিপ্রার্থী হন (যেমন বিসিএস বা ব্যাংক জব), অথবা সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহী একজন মানুষ হন—তবে বাংলাদেশের প্রশাসনিক বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং থানার সঠিক পরিসংখ্যান জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
ইন্টারনেটে অনেক তথ্য ছড়ানো-ছিটানো থাকে, যার ফলে সঠিক এবং হালনাগাদ তথ্য খুঁজে পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর একদম এ টু জেড (A to Z) বিস্তারিত জানবো। চলুন, দেরি না করে জেনে নিই বাংলাদেশে বর্তমানে কয়টি বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও থানা রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর স্তরবিন্যাস
বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পুরো দেশকে কয়েকটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শুরু করে একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই স্তরগুলো কাজ করে। এর প্রধান স্তরগুলো হলো:
- বিভাগ (Division)
- জেলা (District)
- উপজেলা (Upazila)
- থানা (Police Station)
- ইউনিয়ন বা পৌরসভা (Union/Municipality)
- গ্রাম বা ওয়ার্ড (Village/Ward)
বাংলাদেশে বর্তমানে কয়টি বিভাগ রয়েছে?
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে মাত্র ৪টি বিভাগ ছিল—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী এবং খুলনা। কিন্তু পরবর্তীতে প্রশাসনিক সুবিধার্থে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বিভাগের সংখ্যা বাড়ানো হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ৮টি বিভাগ রয়েছে। এগুলো হলো:
- ঢাকা বিভাগ
- চট্টগ্রাম বিভাগ
- রাজশাহী বিভাগ
- খুলনা বিভাগ
- বরিশাল বিভাগ
- সিলেট বিভাগ
- রংপুর বিভাগ
- ময়মনসিংহ বিভাগ (সবচেয়ে নতুন বিভাগ, যা ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়)
বিভাগ অনুযায়ী জেলার সংখ্যা ও নামের তালিকা
বাংলাদেশে মোট ৬৪টি জেলা রয়েছে। কোন বিভাগে কয়টি এবং কী কী জেলা রয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. ঢাকা বিভাগ (১৩টি জেলা)
ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী এবং সবচেয়ে জনবহুল বিভাগ। এর অধীনে থাকা ১৩টি জেলা হলো: ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী এবং গোপালগঞ্জ।
২. চট্টগ্রাম বিভাগ (১১টি জেলা)
পাহাড় আর সমুদ্রঘেরা চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছে ১১টি জেলা: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
৩. রাজশাহী বিভাগ (৮টি জেলা)
বরেন্দ্রভূমি খ্যাত রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলা হলো: রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া এবং জয়পুরহাট।
৪. খুলনা বিভাগ (১০টি জেলা)
সুন্দরবনের জন্য বিখ্যাত খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা হলো: খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর এবং কুষ্টিয়া।
৫. বরিশাল বিভাগ (৬টি জেলা)
নদীমাতৃক বরিশাল বিভাগে রয়েছে মোট ৬টি জেলা: বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা এবং ঝালকাঠি।
৬. সিলেট বিভাগ (৪টি জেলা)
চা বাগান আর হাওরের দেশ সিলেট বিভাগে রয়েছে ৪টি জেলা: সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ।
৭. রংপুর বিভাগ (৮টি জেলা)
উত্তরের জনপদ রংপুর বিভাগের ৮টি জেলা হলো: রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও এবং গাইবান্ধা।
৮. ময়মনসিংহ বিভাগ (৪টি জেলা)
সবচেয়ে নতুন ময়মনসিংহ বিভাগে রয়েছে ৪টি জেলা: ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর এবং জামালপুর।
বাংলাদেশে বর্তমানে কয়টি উপজেলা ও থানা রয়েছে?
অনেক মানুষ উপজেলা এবং থানাকে একই মনে করেন, কিন্তু প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর দিক থেকে এগুলোর মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
- মোট উপজেলা: বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। সর্বশেষ ২০২২-২০২৩ সালের দিকে নতুন কিছু উপজেলা যুক্ত হওয়ার পর এই সংখ্যা ৪৯৫-এ এসে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা মূলত স্থানীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট, যেখানে একজন নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) দায়িত্ব পালন করেন।
- মোট থানা: অন্যদিকে, বাংলাদেশে বর্তমানে থানার সংখ্যা ৬৫২টি (কিছু সূত্রমতে এর সামান্য বেশিও হতে পারে, কারণ মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রতিনিয়ত নতুন থানা গঠিত হয়)।
উপজেলা ও থানার মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, উপজেলা ৪৯৫টি হলে থানা ৬৫২টি কেন? এর উত্তরটি বেশ সহজ। উপজেলা হলো একটি প্রশাসনিক এলাকা, যা মূলত উন্নয়নমূলক কাজ, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ প্রশাসনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে, থানা (Police Station) হলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার একটি ইউনিট। একটি উপজেলার অধীনে সাধারণত একটি থানা থাকে। কিন্তু বড় বড় শহর বা মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে (যেমন- ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকা) জনসংখ্যার আধিক্য এবং অপরাধ দমনের সুবিধার্থে একটি শহরের ভেতরেই অনেকগুলো থানা থাকে। ওই মেট্রোপলিটন এলাকাগুলো কোনো নির্দিষ্ট উপজেলার অন্তর্ভুক্ত নয়, কিন্তু সেখানে থানা রয়েছে। এই কারণেই দেশে উপজেলার চেয়ে থানার সংখ্যা বেশি।
৬৪টি জেলার উপজেলা/প্রশাসনিক থানার নামের সম্পূর্ণ তালিকা
আপনার সুবিধার্থে বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের অধীনে থাকা ৬৪টি জেলার সবগুলো উপজেলার (প্রশাসনিক থানা) নাম নিচে তুলে ধরা হলো। (বি.দ্র: মেট্রোপলিটন শহরের আওতাভুক্ত পুলিশি থানাগুলো এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে, এখানে কেবল প্রশাসনিক উপজেলাগুলোকে উল্লেখ করা হয়েছে)।
Related Posts
১. ঢাকা বিভাগের উপজেলাসমূহ (১৩টি জেলা)
- ঢাকা (৫টি): সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ এবং দোহার। (এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটনের অধীনে ৫০টি পুলিশি থানা রয়েছে)।
- গাজীপুর (৫টি): গাজীপুর সদর, কালিয়াকৈর, কালীগঞ্জ, কাপাসিয়া এবং শ্রীপুর।
- নারায়ণগঞ্জ (৫টি): নারায়ণগঞ্জ সদর, বন্দর, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁও এবং আড়াইহাজার।
- মুন্সীগঞ্জ (৬টি): মুন্সীগঞ্জ সদর, শ্রীনগর, সিরাজদীখান, লৌহজং, টংগীবাড়ী এবং গজারিয়া।
- মানিকগঞ্জ (৭টি): মানিকগঞ্জ সদর, সিঙ্গাইর, শিবালয়, সাটুরিয়া, হরিরামপুর, ঘিওর এবং দৌলতপুর।
- নরসিংদী (৬টি): নরসিংদী সদর, শিবপুর, পলাশ, রায়পুরা, বেলাবো এবং মনোহরদী।
- টাঙ্গাইল (১২টি): টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতি, ঘাটাইল, বাসাইল, গোপালপুর, মির্জাপুর, ভূঞাপুর, নাগরপুর, মধুপুর, সখিপুর, দেলদুয়ার এবং ধনবাড়ী।
- কিশোরগঞ্জ (১৩টি): কিশোরগঞ্জ সদর, হোসেনপুর, পাকুন্দিয়া, কটিয়াদী, ভৈরব, বাজিতপুর, কুলিয়ারচর, তাড়াইল, করিমগঞ্জ, ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম এবং নিকলী।
- ফরিদপুর (৯টি): ফরিদপুর সদর, বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, ভাঙ্গা, নগরকান্দা, চরভদ্রাসন, সদরপুর এবং সালথা।
- মাদারীপুর (৫টি): মাদারীপুর সদর, শিবচর, কালকিনি, রাজৈর এবং ডাসার।
- শরীয়তপুর (৬টি): শরীয়তপুর সদর, নড়িয়া, জাজিরা, গোসাইরহাট, ভেদরগঞ্জ এবং ডামুড্যা।
- রাজবাড়ী (৫টি): রাজবাড়ী সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা, বালিয়াকান্দি এবং কালুখালী।
- গোপালগঞ্জ (৫টি): গোপালগঞ্জ সদর, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া, কাশিয়ানী এবং মুকসুদপুর।
২. চট্টগ্রাম বিভাগের উপজেলাসমূহ (১১টি জেলা)
- চট্টগ্রাম (১৫টি): রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, সন্দ্বীপ এবং কর্ণফুলী।
- কক্সবাজার (৯টি): কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, রামু, টেকনাফ, উখিয়া, পেকুয়া এবং ঈদগাঁও।
- কুমিল্লা (১৭টি): কুমিল্লা আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, বরুড়া, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, মুরাদনগর, দাউদকান্দি, হোমনা, তিতাস, মেঘনা, চান্দিনা, দেবিদ্বার, ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং এবং লালমাই।
- নোয়াখালী (৯টি): নোয়াখালী সদর, বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, চাটখিল, সোনাইমুড়ী, কোম্পানীগঞ্জ, সুবর্ণচর, হাতিয়া এবং কবিরহাট।
- ফেনী (৬টি): ফেনী সদর, দাগনভূঞা, সোনাগাজী, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম এবং ফুলগাজী।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া (৯টি): ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, কসবা, আখাউড়া, Ashuganj, বাঞ্ছারামপুর, নবীনগর, সরাইল, নাসিরনগর এবং বিজয়নগর।
- চাঁদপুর (৮টি): চাঁদপুর সদর, হাজীগঞ্জ, কচুয়া, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, ফরিদগঞ্জ, শাহরাস্তি এবং হাইমচর।
- লক্ষ্মীপুর (৫টি): লক্ষ্মীপুর সদর, রামগঞ্জ, রামগতি, কমলনগর এবং রায়পুর।
- রাঙ্গামাটি (১০টি): রাঙ্গামাটি সদর, কাপ্তাই, কাউখালী, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়ি এবং রাজস্থলী।
- বান্দরবান (৭টি): বান্দরবান সদর, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা, রোয়াংছড়ি এবং থানচি।
- খাগড়াছড়ি (৯টি): খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা, পানছড়ি, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গা, মানিকছড়ি, রামগড়, লক্ষ্মীছড়ি এবং গুইমারা।
৩. রাজশাহী বিভাগের উপজেলাসমূহ (৮টি জেলা)
- রাজশাহী (৯টি): পবা, দুর্গাপুর, মোহনপুর, চারঘাট, পুঠিয়া, বাঘা, গোদাগাড়ী, তানোর এবং বাগমারা।
- বগুড়া (১২টি): বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ, সোনাতলা, গাবতলী, সারিয়াকান্দি, ধুনট, শেরপুর, নন্দীগ্রাম, আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া, কাহালু এবং শাজাহানপুর।
- পাবনা (৯টি): পাবনা সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, সুজানগর, বেড়া এবং সাঁথিয়া।
- সিরাজগঞ্জ (৯টি): সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, চৌহালী, বেলকুচি এবং কামারখন্দ।
- নওগাঁ (১১টি): নওগাঁ সদর, মহাদেবপুর, মান্দা, নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার, ধামইরহাট, পত্নীতলা, বদলগাছী, আত্রাই এবং রানীনগর।
- নাটোর (৭টি): নাটোর সদর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, লালপুর, বাগাতিপাড়া এবং নলডাঙ্গা।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ (৫টি): চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল এবং ভোলাহাট।
- জয়পুরহাট (৫টি): জয়পুরহাট সদর, পাঁচবিবি, আক্কেলপুর, কালাই এবং ক্ষেতলাল।
৪. খুলনা বিভাগের উপজেলাসমূহ (১০টি জেলা)
- খুলনা (৯টি): বটিয়াঘাটা, দাকোপ, ডুমুরিয়া, দিঘলিয়া, কয়রা, পাইকগাছা, রূপসা, তেরখাদা এবং ফুলতলা।
- যশোর (৮টি): যশোর সদর, অভয়নগর, বাঘারপাড়া, চৌগাছা, ঝিকরগাছা, কেশবপুর, মনিরামপুর এবং শার্শা।
- সাতক্ষীরা (৭টি): সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, তালা, আশাশুনি, দেবহাটা, কালীগঞ্জ এবং শ্যামনগর।
- বাগেরহাট (৯টি): বাগেরহাট সদর, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, কচুয়া, চিতলমারী, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল এবং মোংলা।
- ঝিনাইদহ (৬টি): ঝিনাইদহ সদর, শৈলকুপা, হরিণাকুণ্ডু, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর এবং মহেশপুর।
- কুষ্টিয়া (৬টি): কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী, খোকসা, মিরপুর, ভেড়ামারা এবং দৌলতপুর।
- মাগুরা (৪টি): মাগুরা সদর, শ্রীপুর, শালিখা এবং মহম্মদপুর।
- নড়াইল (৩টি): নড়াইল সদর, লোহাগড়া এবং কালিয়া।
- চুয়াডাঙ্গা (৪টি): চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা এবং জীবননগর।
- মেহেরপুর (৩টি): মেহেরপুর সদর, গাংনী এবং মুজিবনগর।
৫. বরিশাল বিভাগের উপজেলাসমূহ (৬টি জেলা)
- বরিশাল (১০টি): বরিশাল সদর, বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, বানারীপাড়া, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ এবং বাকেরগঞ্জ।
- পটুয়াখালী (৮টি): পটুয়াখালী সদর, বাউফল, দশমিনা, গলাচিপা, কলাপাড়া, মির্জাগঞ্জ, দুমকি এবং রাঙ্গাবালী।
- ভোলা (৭টি): ভোলা সদর, বোরহানউদ্দিন, চরফ্যাশন, দৌলতখান, লালমোহন, তজুমদ্দিন এবং মনপুরা।
- পিরোজপুর (৭টি): পিরোজপুর সদর, কাউখালী, ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া, নাজিরপুর, নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) এবং ইন্দুরকানী।
- বরগুনা (৬টি): বরগুনা সদর, আমতলী, পাথরঘাটা, বেতাগী, বামনা এবং তালতলী।
- ঝালকাঠি (৪টি): ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর এবং কাঁঠালিয়া।
৬. সিলেট বিভাগের উপজেলাসমূহ (৪টি জেলা)
- সিলেট (১৩টি): সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, বিশ্বনাথ, ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর এবং কোম্পানীগঞ্জ।
- সুনামগঞ্জ (১২টি): সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ (শান্তিগঞ্জ), বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, শাল্লা, দিরাই, জগন্নাথপুর এবং মধ্যনগর।
- হবিগঞ্জ (৯টি): হবিগঞ্জ সদর, লাখাই, মাধবপুর, চুনারুঘাট, বাহুবল, বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ এবং শায়েস্তাগঞ্জ।
- মৌলভীবাজার (৭টি): মৌলভীবাজার সদর, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, বড়লেখা, জুড়ী এবং রাজনগর।
৭. রংপুর বিভাগের উপজেলাসমূহ (৮টি জেলা)
- রংপুর (৮টি): রংপুর সদর, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, গংগাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা, পীরগঞ্জ এবং মিঠাপুকুর।
- দিনাজপুর (১৩টি): দিনাজপুর সদর, বিরল, বোচাগঞ্জ, কাহারোল, বীরগঞ্জ, খানসামা, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর এবং ঘোড়াঘাট।
- কুড়িগ্রাম (৯টি): কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর এবং উলিপুর।
- গাইবান্ধা (৭টি): গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা এবং ফুলছড়ি।
- নীলফামারী (৬টি): নীলফামারী সদর, সৈয়দপুর, কিশোরগঞ্জ, জলঢাকা, ডিমলা এবং ডোমার।
- ঠাকুরগাঁও (৫টি): ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী এবং হরিপুর।
- পঞ্চগড় (৫টি): পঞ্চগড় সদর, বোদা, দেবীগঞ্জ, আটোয়ারী এবং তেঁতুলিয়া।
- লালমনিরহাট (৫টি): লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা এবং পাটগ্রাম।
৮. ময়মনসিংহ বিভাগের উপজেলাসমূহ (৪টি জেলা)
- ময়মনসিংহ (১৩টি): ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, ত্রিশাল, ভালুকা, গফরগাঁও, নান্দাইল, ঈশ্বরগঞ্জ, গৌরীপুর, ফুলপুর, তারাকান্দা, হালুয়াঘাট এবং ধোবাউড়া।
- জামালপুর (৭টি): জামালপুর সদর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, ইসলামপুর, সরিষাবাড়ী, দেওয়ানগঞ্জ এবং বকশীগঞ্জ।
- নেত্রকোনা (১০টি):** নেত্রকোনা সদর, বারহাট্টা, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, পূর্বধলা, কেন্দুয়া, মদন, খালিয়াজুরী, আটপাড়া এবং মোহনগঞ্জ।
- শেরপুর (৫টি): শেরপুর সদর, নকলা, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী এবং নালিতাবাড়ী।
সাধারণ জ্ঞানের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (এক নজরে)
- সবচেয়ে বড় বিভাগ (আয়তনে): চট্টগ্রাম বিভাগ।
- সবচেয়ে ছোট বিভাগ (আয়তনে): ময়মনসিংহ বিভাগ।
- সবচেয়ে বড় জেলা (আয়তনে): রাঙ্গামাটি।
- সবচেয়ে ছোট জেলা (আয়তনে): নারায়ণগঞ্জ।
- সবচেয়ে বেশি উপজেলা বিশিষ্ট জেলা: কুমিল্লা (১৭টি উপজেলা)।
উপসংহার
একটি দেশের নাগরিক হিসেবে নিজের দেশের ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকাটা আমাদের সবার জন্যই গর্বের এবং প্রয়োজনের। এই আর্টিকেলে আমরা বাংলাদেশের ৮টি বিভাগ, ৬৪টি জেলা, ৪৯৫টি উপজেলা এবং ৬৫২টি থানা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি।
আশা করি, আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি বাংলাদেশের প্রশাসনিক বিভাজন সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানতে পেরেছেন। তথ্যগুলো যদি আপনার কাছে উপকারী মনে হয়, তবে অবশ্যই আর্টিকেলটি আপনার বন্ধু এবং পরিবার ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে ভুলবেন না। আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।
