অন্তর নষ্টকারী পাঁচটি মারাত্মক বিষয় জেনে নিন

অন্তর নষ্টকারী পাঁচটি মারাত্মক বিষয় জেনে নিন
অন্তর নষ্টকারী পাঁচটি মারাত্মক বিষয়

অন্তর আমাদের ঈমানের কেন্দ্রবিন্দু। এটি সঠিক থাকলে পুরো দেহ সঠিক থাকে, আর নষ্ট হলে পুরো দেহ নষ্ট হয়ে যায়। রাসূল ﷺ বলেছেন—

“দেহে একটি টুকরা মাংস আছে, তা ভালো থাকলে পুরো দেহ ভালো থাকে এবং তা নষ্ট হলে পুরো দেহ নষ্ট হয়ে যায়। শুনে রাখো, সেটিই হলো অন্তর।”
(সহিহ বুখারি ৫২, সহিহ মুসলিম ১৫৯৯)

আজ আমরা দেখবো অন্তর নষ্টকারী ৫টি বিষয়, যা থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে—
  1. অতিরিক্ত মেলামেশা (كثرة الخلطة)
    প্রয়োজনীয় সম্পর্ক রাখা ইসলামে বৈধ। তবে অতিরিক্ত মেলামেশা অন্তরের প্রশান্তি কেড়ে নেয়, গাফিলতি বাড়ায় এবং আল্লাহর যিকর থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

    📖 আল্লাহ বলেন— “অধিক হাসাহাসি অন্তরকে মেরে ফেলে।” (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪১৯৩)

    ➡️ অপ্রয়োজনীয় ভিড়ভাট্টা, আড্ডা ও ফালতু কথা বলা অন্তরকে কঠিন করে ফেলে।
  2. দীর্ঘ আশা (طول الأمل)
    দীর্ঘ আশা মানুষকে দুনিয়ার মোহে ফেলে দেয়, মৃত্যু ভুলিয়ে দেয় এবং আখিরাতের প্রস্তুতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। 📖 রাসূল ﷺ বলেছেন— “বৃদ্ধ হয়ে গেলেও মানুষের দুটি জিনিস তরুণ থাকে— ধন-সম্পদের লোভ এবং দীর্ঘ আশা।” (সহিহ বুখারি ৬৪২১, সহিহ মুসলিম ১০৪৭)

    ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করতে গিয়ে মৃত্যু ও হিসাব-নিকাশ ভুলে গেলে অন্তর কলুষিত হয়।
  3. গান-বাজনা (سماع المعازف)
    গান-বাজনা অন্তরের নরমতা নষ্ট করে, আল্লাহর যিকর থেকে বিমুখ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে দেয়। 📖 আল্লাহ বলেন— “মানুষের মধ্যে কেউ আছে যারা অবান্তর কথা (লাহওয়াল-হাদীস) ক্রয় করে, যেন মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে।” (সূরা লুকমান ৩১:৬)

    ইবনু আব্বাস রা., ইবনু মাসউদ রা. সহ অনেক সাহাবী ব্যাখ্যা করেছেন যে, এখানে লাহওয়াল-হাদীস বলতে গান-বাজনা বোঝানো হয়েছে। (তাফসির ইবনে কাসির)
  4. ভরপেট খাওয়া (كثرة الأكل)
    অতিরিক্ত খাওয়া শরীরকে অলস করে এবং অন্তরকে কঠিন করে ফেলে। 📖 রাসূল ﷺ বলেছেন— “মানুষ কোনো পাত্রই তার পেটের চেয়ে খারাপভাবে পূর্ণ করে না। কিছু কণিকা খাবার যথেষ্ট যা তার পিঠ সোজা রাখে। আর যদি অবশ্যই খেতে হয়, তবে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য, আর এক-তৃতীয়াংশ নিঃশ্বাসের জন্য।” (সুনান তিরমিযি ২৩৮০, সহিহ)

    ➡️ অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে আলস্য, গাফিলতি ও ইবাদতে অনীহা তৈরি হয়।
  5. অতিরিক্ত ঘুম (كثرة النوم)
    বেশি ঘুম আলস্য আনে, নামাজ ও ইবাদত থেকে বিরত রাখে। 📖 আল্লাহ বলেন— “তুমি তাদেরকে রাতের সামান্য অংশ ব্যতীত ঘুমাতে দেখবে না, আর ভোরের সময় তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে।” (সূরা আয-যারিয়াত ৫১:১৭-১৮)

    ➡️ সাহাবী ও সালাফগণ কম ঘুমাতেন এবং রাতকে কুরআন ও যিকরে জীবন্ত রাখতেন।
💡সমাধান ও পরিশুদ্ধির পথ
অন্তরের রোগ ধীরে ধীরে ঈমানকে দুর্বল করে দেয়। তাই আমাদের করণীয়—

  1. অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা কমানো
  2. দীর্ঘ আশা ত্যাগ করা
  3. গান-বাজনা থেকে বেঁচে থাকা
  4. খাবার ও ঘুমে সংযম আনা

📖 আল্লাহ বলেন— “সফল হলো সে-ই, যে তার অন্তরকে পবিত্র করেছে, আর ধ্বংস হলো সে-ই, যে তাকে কলুষিত করেছে।” (সূরা আশ-শামস ৯১:৯-১০)

Info! আল্লাহ আমাদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ রাখুন এবং এসব রোগ থেকে রক্ষা করুন। আমীন।‌

About the author

Masum Billah
আসসালামু আলাইকুম! পোস্টটি পরে আপনার কাছে কেমন লেগেছে তা জানিয়ে কমেন্ট করুন। এবং নিয়মিত পোস্ট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন। ধন্যবাদ 🥰

Post a Comment

কমেন্ট করতে Enter Comment ক্লিক করুন

Join the conversation