![]() |
| স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব, প্রতিবেশীর সঙ্গে যে কাণ্ড ঘটালেন স্বামী। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি |
ঘটনার সূত্রপাত
নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার কয়শা গ্রামের বাসিন্দা সুমন হোসেন (৩৯)। ২০২৪ সালের ২০ জুন রাত প্রায় সাড়ে এগারোটার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হন এবং আর ফিরে আসেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে দু'দিন পর আত্রাই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
প্রথমদিকে এটাকে সাধারণ নিখোঁজের ঘটনা মনে করা হলেও পরবর্তীতে বাড়ির কাছে ইটের টুকরোয় রক্তের দাগ দেখা যায়। পুলিশ সেই রক্তের ডিএনএ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয় যে, তা সুমনেরই। এরপর সুমনের স্ত্রী বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু দুই মাসেও মামলায় তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় তদন্ত অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে।
নতুন তথ্য ও তদন্তের মোড় ঘুরে যায়
প্রায় এক সপ্তাহ আগে সুমনের পরিবার ও স্বজনরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। এরপর পুলিশ সুপার নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি (প্রধান আসামি শাফিউল ইসলাম) হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়—
সুমন হোসেন তার স্ত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং হাত ধরে টানাটানি করেছিলেন বলে অভিযোগ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন শাফিউল। পরের দিন অর্থাৎ ২২ জুন মধ্যরাতের দিকে তিনি সুমনকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন। ছোট ভাইয়ের সহায়তায় গ্রামের নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন।
হত্যার পর দুই ভাই মিলে মরদেহ গুম করার জন্য পাশের একটি শুকনো ডোবায় মাটি চাপা দেন। ঘটনার কয়েক মাস পর শাফিউলের ছোট ভাই আত্মহত্যা করেন।
কীভাবে ধরা পড়ল খুনি?
হত্যার পর শাফিউল সুমনের মোবাইল ফোন নিজের কাছে রেখে দেন এবং বন্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে সেই ফোন চালু করে ব্যবহার শুরু করলে পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি টিমের নজরে আসে। এ সূত্র ধরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে আসামির দেখানো পয়সা গ্রামের রমজানের পুকুরসংলগ্ন ডোবার পানি সেচে এবং মাটি খুঁড়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুমনের হাড়গোড় ও বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এসব দেহাবশেষ আত্রাই থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।
শেষ কথা
একটি অনৈতিক প্রস্তাব থেকে শুরু হয়ে যাওয়া ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় রূপ নেয়। দীর্ঘ সময় পর হলেও পুলিশের অধ্যবসায় ও তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনা গ্রামীণ সমাজে নৈতিকতা, সম্পর্কের সীমারেখা ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।
(তথ্যসূত্র: বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম ও পুলিশের ব্রিফিং থেকে সংগৃহীত। এটি একটি সংক্ষিপ্ত ও স্বতন্ত্র উপস্থাপনা।)
