মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটের দিকে ৫.৯ মাত্রার একটি মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের মাগওয়ে অঞ্চলে, ইয়েনাঙ্গিয়াং শহর থেকে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার পশ্চিমে (কিছু সূত্রে সিতওয়ে বা রাখাইন অঞ্চলের কাছাকাছি বলা হয়েছে)। গভীরতা ছিল প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটারের মধ্যে।
এই কম্পনের প্রভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্পষ্টভাবে দোলা অনুভূত হয়েছে। কোথাও কোথাও ভবনের আসবাবপত্র নড়াচড়া করেছে, কেউ কেউ দৌড়ে বাইরে চলে এসেছেন। তবে সৌভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে আজ সকালেই, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আরেকটি ভূকম্পন অনুভূত হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক সিসমোলজিক্যাল সেন্টারগুলোর মতে, এটির মাত্রা ছিল ৪.১। উৎপত্তিস্থল ছিল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা জেলার কাছাকাছি এলাকা। এটিও তুলনামূলক হালকা ছিল, তবে অনেকের ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছে।
কেন এত ঘন ঘন ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে?
বাংলাদেশ ভারতীয় প্লেট, বার্মা প্লেট এবং সুন্দা প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত—যা ভূ-তাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় অঞ্চল। মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট বা রাখাইন অঞ্চলের ফল্ট লাইনগুলো থেকে প্রায়ই কম্পন ছড়িয়ে পড়ে আমাদের দেশে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে সিসমিক অ্যাকটিভিটি একটু বেড়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
আমাদের করণীয় কী?
শান্ত থাকুন, প্যানিক করবেন না।
ভূমিকম্পের সময় Drop, Cover, Hold On নিয়ম মেনে চলুন: মাটিতে বসে পড়ুন, মজবুত টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিন, মাথা-ঘাড় ঢেকে রাখুন।
ভবন থেকে বের হওয়ার সময় লিফট ব্যবহার করবেন না, সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
পরিবারের সঙ্গে আগে থেকেই ইমার্জেন্সি প্ল্যান করে রাখুন—জরুরি ব্যাগ, পানি, টর্চ, চার্জার ইত্যাদি প্রস্তুত রাখুন।
আপনার এলাকায় কেমন অনুভূত হয়েছে? কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি? কমেন্টে জানান, সবাইকে সচেতন রাখতে সাহায্য করুন।
(তথ্যসূত্র: USGS, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, VolcanoDiscovery, Dhaka Tribune, TBS ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সংগৃহীত।)
