মেডিটেশন বা ধ্যানের রহস্য- জেনে নিন

মেডিটেশন বা ধ্যানের রহস্য- জেনে নিন


মানব শরীর দৃশ্যমান, তাই এই দেহের জন্য যা লাগে; অর্থাৎ খাবার, তাও দৃশ্যমান, আমরা যা খাই তা দেখা যায়। 

কিন্তু মানব মন, অন্তর অদৃশ্য, আমাদের অনুভুতি, আমাদের আবেগ, আমাদের কষ্ট-হতাশাও অদৃশ্য। তাই এই অন্তরের খাবার, এই অন্তরকে সুস্থ সতেজ রাখার জন্য যেই খাদ্য প্রয়োজন তাও অদৃশ্য। 

তাই আদিকাল থেকেই মানুষ অন্তরের-রূহের সতেজতা, দুঃখ-কষ্ট থেকে বেরিয়ে মানসিক তৃপ্তি পাবার জন্য আধ্যাত্মিকতার(Spirituality) খোজ করতো। আধ্যাত্মিক পবিত্রতার জন্য তো স্রষ্টা প্রয়োজন যার কাছে চাইবে! আর স্রষ্টা, রব স্রেফ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা। 

কিন্তু.. যারা অন্য পথের অনুসারী! এমন পন্থায় স্পিরিচুয়ালিটির চর্চা করতো যার শেকড় ছিলো স্বয়ং শয়ত|ন বা ইবলি/স। 

ধ্যান বা মেডিটেশন.....
এমন এক অকাল্ট রিচুয়াল (গুপ্ত-শয়ত|নি প্রক্রিয়া) যার মাধ্যমে আত্মা বা অন্তরের স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক অনেক চাহিদা মেটানো যায়।অস্বাভাবিক ক্ষমতাও লাভ করা যায়। কিভাবে অস্বাভাবিক চাহিদা মেটানো হয়?? আমরা পড়তে পড়তেই জানবো।

ব্যবিলন থেকে আমদানী করে আনা জ|দুবিদ্যার একটি অংশ হলো এই মেডিটেশন বা ধ্যান বা যোগ (Yoga).
এর কিছু শর্ত ও নীতিমালা আছে, যেগুলো মেনে চললে ধ্যানের মূল লক্ষ্যে পৌছানো যাবে। শুরুতেই সবার ধ্যান হবে না, এজন্য শর্ত কিছু এরূপ; নিরিবিলি পরিবেশ, মৃদু সংগীত, ধুপ বা মোমবাতি জালানো, হাত দুটো হাটুতে বা কোলে রেখে মেরুদণ্ড সোজা করে বসা, প্রতিদিন একই সময়ে ও দীর্ঘ সময় ধ্যান করা, শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রতি মনোযোগ ইত্যাদি অনুশীলনের মাধ্যমে ধ্যানের মূল স্তরে পৌছানো যায়। এরপর কি হয়? 

অকাল্ট এসব রিচুয়ালের বিশ্বাসীরা বিশ্বাস করে আমরা যেই জগতে আছি এটাই আসল জগৎ না। এর থেকেও উচ্চতর জগৎ (Higher dimension) আছে, আমাদের এই বাস্তবতা আসল না, এসব কাল্পনিক, আবার অই উচ্চতর উন্নত জগতেও কিছু স্বত্তা(Entity) আছে যাদের মহত্তম স্বত্তা (Higher spirit being), (Higher being), (Higher self) ইত্যাদি বলে ডাকা হয়। তাহলে, কারা এই স্বত্তা যারা আমাদের থেকেও উচুতে? কারা? যারা আমাদের থেকেও ক্ষমতাবান?? কারা এই higher being? কারা এই higher self?? 

তারা এও বিশ্বাস করে সেই মহান আত্মাদের সাথে যোগাযোগ তৈরি করতে পারলে শারীরিক-মানসিক উন্নতি সহ অনেক অসাধ্যই সাধন করা যায়। 

আর এই যোগাযোগ বা চ্যানেলিং এর অন্যতম একটা মাধ্যম হলো ধ্যান বা মেডিটেশন। তো উপরের শর্তসমূহ মেনে ধ্যানে বসলে আস্তে আস্তে অদ্ভুত কিছু অনুভূতি শরীরে অনুভূত হবে। মেরুদন্ডের নিচ থেকে উপর পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার মত এনার্জি ভাইব্রেশন অনুভূতি হবে, তখন অনুভব করতে হবে এই এনার্জি একটা স্বত্তা(Entity), এই এনার্জির উপর নিজেকে সঁপে দিতে হবে, আত্মসমর্পণ করতে হবে, অনুগত হতে হবে। মেরুদন্ডের নিচ থেকে চক্রাকারে এই এনার্জি সঞ্চালনের কাছে নিজেকে ছেড়ে দিতে হবে। তখন ধীরে ধীরে শরীরের সাথে Higher dimension এর দরজা খুলে যায়, তখন Higher dimension থেকে Higher spirit বা সেই সম্মানিত(!) স্বত্তা শরীরে প্রবেশ করে; এরপর চিন্তাভাবনা ও কল্পনায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়। এমতাবস্থায় ধ্যানে চাইলে কেউ আরো সহস্র Higher spirit দের দেখা পাবে, দূরের কিছু শুনতে পারবে, চোখ বন্ধ করলেও অনেক কিছু দেখতে পারবে (এটাকে আবার বলা হয় Opening Third Eye), এর মাধ্যমে চাইলে ধ্যানরত অবস্থায় শরীর একজায়গায় রেখে Higher Spirit দের সাথে দূর দূরান্তে ঘুরে বেড়াতে পারবে, এমনকি নিজের দেহে ক্যান্সার জার্ম, ইনফেকশন, প্রচন্ড যন্ত্রণা, ব্যাথা ইত্যাদিও দূর করা সম্ভব। 

ডক্টর স্ট্রেঞ্জ মুভিতে স্টিফেন স্ট্রেঞ্জ দূর্ঘটনাজনিত কারণে নিজের হাতের চিকিৎসার জন্য নেপালের কাঠমুন্ডুতে গেলো, সেখানে একজন কে দেখলো যে তার থেকেও মারাত্মক ইঞ্জুরড প্যারালাইসিসের এক রোগীকে পরিপূর্ণ সুস্থ করে দেয়। ডক্টর স্ট্রেঞ্জ তার থেকে মেডিক্যাল টার্মের ব্যাখ্যা চাইলে অই সর্সারার(জ|দুকর) তাকে বলে, No, Mr strange! I know how to reorient spirit to better heal the body. অর্থাৎ সেই দেবতাতূল্য আত্মাদের শরীরে প্রবেশ করিয়ে আরোগ্য করা।
তখন ডক্টর স্ট্রেঞ্জকে অই জ|দুকর ধ্যানের কিছু ছবি দেখায়। 

পৌত্তলিকরা এও বিশ্বাস করে আমাদের এই দেহ শুধু একটা বস্তু, আমাদের আত্মা বা Spirit হলো একটি শক্তি(Energy) যা অমর। আমরা ধ্যানের মাধ্যমে যেভাবে আমাদের সেই আত্মা অন্য জগতে যেতে পারে, তেমনি আমরা মারা গেলে আমাদের আত্মা শরীর থেকে বের হয়ে অন্য জগতে প্রবেশ করবে যেটাকে নাম দেয় Astral projection। তবে এই এস্ট্রাল প্রজেকশনের আগে দীর্ঘ সময় ধ্যান করতে হবে, অনেক বছর সাধনা করতে হবে। এরপর যখন সেই উচ্চতর জগতের সাথে সম্পর্ক তৈরি হবে তখন মৃত্যু হলে সহজেই অই ব্যক্তির আত্মা সেখানে চলে যাবে। সেখানে আর মৃত্যু হবে না। (ইবলি/সের সেই ধোকার কথা মনে আছে? সেই ফল যা খেলে বলেছিলো অমর হবে? এখন ফল নেই তবে তার বদলে এসেছে নানান মিথ আর শাস্ত্রীয় সব বিশ্বাস)। 
এই ধোকায় পড়েছিলো কিছু বছর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। বেচারা সুইসাইড করেই ফেলে শেষমেষ। এ নিয়ে লিখেছিলাম, কমেন্টে লিংক দেয়া হলো। 

একটা কথা তো বলতেই ভুলে গেলাম। এই ধ্যানের চাইতে সহজ আরেকটা রাস্তা আছে যার মাধ্যমে সেরকম জগতে পৌছানো যায়; সাইকাডেলিক ড্রাগ : এলএসডি, ডিএমডি, এমডিএমএ ইত্যাদি৷ ধ্যান না করেও এসব সেবন করলেই সেই হায়ার স্পিরিটের সাথে যোগাযোগ করা যায়। 

এইযে এত দৃশ্য, এত ঘটনা ঘটে যাওয়া এটাকে আরেকটা নাম দেয়া হয় : Altered State of Consciousness, বাংলায় ব্যাখ্যা করলে হয়; আমরা এইযে জাগ্রত এবং চেতন অবস্থায় আছি, আমরা যদি ধ্যানে মগ্ন হয়ে অইসব দৃশ্য অবলোকন করি বা অনেক কিছু দেখি কিংবা শুনি; সেটা হবে চেতনার আরেক জগৎ, এবং সেটাও বাস্তব, আমাদের বাস্তব জগতের মতই। 

পাঠক! আমি আপনাকে এই প্রশ্ন করবো না মূল বিষয়টা কি? আপনি স্পষ্ট বুঝেই গিয়েছেন এই ধ্যান আসলে শয়ত|নকে শরীরে দাওয়াত দেয়ার মাধ্যম, এই যোগ(Yoga) হচ্ছে শরীরের সাথে শয়ত|নে যোগ করা। এই শয়ত|নের কাছেই নিজেকে আত্মসমর্পণ করানো, আর যত কুফ/ রি ধোকায় নিজেকে নিমজ্জিত করা,মৃত্যুকে অবিশ্বাস করানো এবং অমর মনে করা, কিয়ামতকে অস্বীকার করা। সব কিছুর মূলে এই ধ্যান বা মেডিটেশন বা ইয়োগা। কি ভয়ানক!! 

ডাকোটা নামে এক স্পিরিচুয়ালিস্ট(অধ্যাত্মবাদী) ছিলো, যে অই জগতে দেখা হায়ার স্পিরিট দের সরাসরি Dem০n(শয়ত|ন) বলতো। তার পরামর্শ হচ্ছে চেতনার অই স্তরে পৌছলে তাদের কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করতে হবে, কোনো অহংকার দেখানো যাবে না, কেউ যদি আত্মসমর্পণ না করে সে জাহান্ন| মের মধ্যে পাজল্ড লুপে আটকে যাবে। 

কি.…?? ইলুমিনাটির Sold my soul to the d£vil (আমি আমার আত্মাকে শয়তানের কাছে বিক্রি করে দিলাম) এর বাক্যের সাথে মিল পাওয়া যায়??? এখনকার সব তারকাই এই ডায়লগটি দেয়।
ডাকোটা বলে, এই স্বত্তাগুলো আমাদের মতই, এদের আমরা ভয় পাই বলে এরা আমাদের উপর প্রভাব ফেলে, পজেস করে। এদেরকে ভয় করা যাবে না, এদের কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করলে এদের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। 

পীথাগোরাস,আইজ্যাক নিউটন থেকে আইনস্টাইন, কেপলার, গ্যালিলিও, সক্রেটিস, প্লেটো প্রত্যেকেই চেতনার এই স্তরে পৌছতো, যাতে নতুন থিওরি প্রসব কর‍তো। আইনস্টাইন চেতনার ওপারে যাবার প্রক্রিয়াকে নাম দিয়েছে মাইন্ড এক্সারসাইজ! যখনই ওই স্তরে পৌছত, ফিরে আসতো নতুন কোন থিওরি বা ইক্যুয়েশন নিয়ে। ম্যাটারকে ভাইব্রেটরি এনার্জেটিক ফিল্ডের তত্ত্বটিও(E=mc²) এই হ্যালুসিনোজেনিক এক্সপেরিয়েন্স থেকেই এসেছে। এর প্রেক্ষাপটে আজ পদার্থবিজ্ঞানীগন বলছেন,Everything physical is really non physical! 

যাকগে এত কথা। 

কয়েক হাজার বছর আগে গ্রীক শাস্ত্রে এই স্বত্তাদের daim০n (Dem০n বা শয়ত|ন) বলা হতো। daim০n কে বলা হতো দেবতা, যারা আসমান-জমিনের মাঝ থেকে মানুষের সাথে God এর যোগাযোগ স্থাপন করে। 

কোয়ান্টাম মেথডের প্রাথমিক শিক্ষাও এই ধ্যান, ইয়োগা, চক্র, Opening third eye কিংবা Altered state of consciousness... 
আর কোয়ান্টাম মেথডের নাম শুনলেই চলে আসে আমাদের দেশের এমন এক প্রতিষ্ঠানের পরিচয় যারা কোয়ান্টাম মেথডের অকাল্ট রিচুয়াল চিরাচরিত নিজেদের মধ্যে গ্রফোন করে নিয়েছে। 

জ্বি.... কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। আমরা অনেকে মনে করি বাংলাদেশের প্রচলিত কোয়ান্টাম ম্যাথড হয়ত কোয়ান্টাম ফিজিক্সের নাম ভাঙ্গিয়ে ব্যবসা করছে। কোয়ান্টাম ম্যাথডের মহাজাতক শহীদ আল বোখারী এই স্পিরিট এন্টিটি তথা শয়ত|নকে নাম দিয়েছে 'অন্তগুরু'। তাদের প্রকাশিত সাফল্যের চাবিকাঠি বইতে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে এই উপদেষ্টা আধ্যাত্মিক গুরুর সাথে সাক্ষাৎ লাভের বিষয় নিয়ে। তাদের এসব শয়ত|নি নিয়ে আমরা পরে কখনো জানবো,

_ ইনশা আল্লাহ।

About the author

Masum Billah
আসসালামু আলাইকুম! পোস্টটি পরে আপনার কাছে কেমন লেগেছে তা জানিয়ে কমেন্ট করুন। এবং নিয়মিত পোস্ট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন। ধন্যবাদ 🥰

Post a Comment

কমেন্ট করতে Enter Comment ক্লিক করুন

Join the conversation