বিকাশে ভুল নম্বরে টাকা চলে গেছে? জেনে নিন টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চিত উপায়
মোবাইল ব্যাংকিং, বিশেষ করে বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন করার সময় অসাবধানতাবশত ভুল নাম্বারে টাকা চলে যাওয়া একটি পরিচিত সমস্যা। তাড়াহুড়ো বা টাইপিং মিস্টের কারণে আপনার কষ্টার্জিত অর্থ ভুল হাতে চলে গেলে আতঙ্কিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে আশার কথা হলো, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে এই টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব। বিকাশ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশিকা দিয়েছে।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো, ভুল নাম্বারে টাকা চলে গেলে কীভাবে তা ফেরত আনবেন এবং কোন পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ নিতে হবে।
পরিস্থিতি ১:
প্রাপকের নম্বরে যদি বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা না থাকে
আপনার পাঠানো টাকাটি যদি এমন কোনো নাম্বারে যায় যেখানে কোনো সচল বিকাশ অ্যাকাউন্ট নেই, তবে আপনি খুব সহজেই এবং কোনো ঝামেলা ছাড়াই অ্যাপ থেকে টাকা ফেরত আনতে পারবেন।
টাকা ফেরত আনার ধাপসমূহ:
১. বিকাশ অ্যাপে প্রবেশ করুন: প্রথমেই আপনার বিকাশ অ্যাপে লগ-ইন করুন।
২. সেন্ড মানি অপশন: অ্যাপের মূল মেনু থেকে 'সেন্ড মানি' (Send Money) অপশনে যান।
৩. লেনদেন বাতিল করুন: সেখানে আপনি আপনার সাম্প্রতিক লেনদেনের তালিকা দেখতে পাবেন। যে ট্রানজেকশনটি ভুল নাম্বারে হয়েছে, তার পাশে 'বাতিল' (Cancel) বাটনটি দেখতে পাবেন (এটি শুধুমাত্র নন-বিকাশ নম্বরের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হবে)।
৪. নিশ্চিতকরণ: বাতিল বাটনে ট্যাপ করে 'হ্যাঁ' নির্বাচন করুন। সাথে সাথেই আপনার মূল অ্যাকাউন্টে টাকাটি ফেরত বা রিফান্ড হয়ে যাবে।
বিঃদ্রঃ প্রাপক যদি টাকা পাওয়ার পর দ্রুত অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলে, তবে এই পদ্ধতিতে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নিন।
পরিস্থিতি ২:
প্রাপকের নম্বরে যদি সচল বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকে
যদি ভুলবশত টাকা এমন কাউকে পাঠিয়ে ফেলেন যিনি একজন সক্রিয় বিকাশ ব্যবহারকারী, তবে আপনি অ্যাপ থেকে সরাসরি লেনদেন বাতিল করতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে আপনাকে বিকাশ কাস্টমার কেয়ারের সহায়তা নিতে হবে।
এক্ষেত্রে আপনার করণীয়:
দ্রুত যোগাযোগ করুন: কালক্ষেপণ না করে বিকাশের হেল্পলাইন ১৬২৪৭ (16247) নম্বরে কল করুন অথবা আপনার নিকটস্থ বিকাশ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
তথ্য প্রমাণ প্রস্তুত রাখুন: কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধির কাছে অভিযোগ দায়ের করার জন্য নিচের তথ্যগুলো হাতের কাছে রাখুন:
লেনদেনের সঠিক সময় ও তারিখ।
আপনার (প্রেরকের) মোবাইল নম্বর।
ভুল প্রাপকের মোবাইল নম্বর।
টাকার সঠিক পরিমাণ।
লেনদেনের ট্রানজেকশন আইডি (TrxID) বা অ্যাপ থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।
বিকাশ কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ:
- আপনার অভিযোগের ভিত্তিতে বিকাশ কর্তৃপক্ষ ওই ভুল প্রাপকের সাথে যোগাযোগ করবে এবং তার সম্মতি সাপেক্ষে টাকা ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করবে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিকাশ সরাসরি কারো অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে রাখে না, তাই প্রাপকের সম্মতি প্রয়োজন হয়।
আইনি সহায়তা:
- যদি প্রাপক টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় বা অসহযোগিতা করে, তবে আপনি জিডি (GD) বা আইনি সহায়তার মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশ পেলেই বিকাশ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
সতর্কতা ও পরামর্শ:
ভুল শুধরানোর চেয়ে ভুল এড়ানোই সর্বোত্তম। অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়াতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:
- ১. নম্বর যাচাই: টাকা পাঠানোর আগে প্রাপকের নম্বরটি অন্তত দুইবার মিলিয়ে দেখুন।
- ২. নাম নিশ্চিত হোন: বিকাশে টাকা পাঠানোর সময় প্রাপকের নাম অ্যাপে প্রদর্শিত হয়, সেটি নিশ্চিত হয়ে তবেই পিন নম্বর দিন।
- ৩. নিজস্ব ডিভাইস ব্যবহার: তাড়াহুড়োতে অন্যের ফোন থেকে লেনদেন না করার চেষ্টা করুন।
- ৪. সেভ করা নম্বর: নিয়মিত যাদের টাকা পাঠান, তাদের নম্বর 'সেভ' করে রাখুন যাতে টাইপিং ভুল না হয়।
উপসংহার:
ভুল নাম্বারে টাকা চলে গেলে ঘাবড়ে না গিয়ে মাথা ঠান্ডা রাখুন। উপরের নিয়মগুলো অনুসরণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব। সচেতন থাকুন, নিরাপদে লেনদেন করুন।
